নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 7 বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মো. হিরন মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্সকর্মী মালয়েশিয়ায় বজ্রপাতে মারা গেছেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে দেশটির একটি বাগানে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হিরন মিয়া কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় একটি বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হিরনের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে তাঁর স্ত্রী হ্যাপি আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত হিরনের বড় ভাই মো. খোকন মিয়া জানান, জীবিকার তাগিদে ও ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় তিন বছর আগে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় যান হিরন। সেখানে একটি কোম্পানির অধীনে বাগান শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সোমবার বিকেলে বাগানে কাজ করার সময় হিরনের ওপর বজ্রপাত হয়। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে বিষয়টি জানান।
খোকন মিয়া আরও জানান, বর্তমানে হিরনের মরদেহ দেশে আনার জন্য তাঁর সহকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।
তিনি জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে হিরন ছিলেন সবার ছোট। বিদেশ যাওয়ার আগে দেশে গাছ কাটার কাজ করতেন তিনি। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে ইকরাম হোসেন আমির দশম শ্রেণিতে, মেয়ে হিমু আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং রিমু আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া জানান, হিরন অনেক ঋণ করে কষ্টের মধ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে নিহামনি নামে তাঁর ছোট একটি মেয়ে মারা যায়। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
Posted ১০:৪৪ এএম | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।